ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পূর্ব মহেশালী গ্রামে ভুট্টা খেত থেকে উদ্ধার নবজাতকের মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঐ নবজাতকের মায়ের সন্ধান পান স্থানীয়রা। গত সোমবার গভীর রাতে নবজাতকের মায়ের সন্ধান পাওয়ার পর মহেশালী গ্রামে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভুট্টা খেতের পাশে ঐ নারীর বাবার বাড়ি। উত্তেজিত জনতা একপর্যায়ে তাদের বাড়ি ভাঙচুর করতে যায়। তবে স্থানীয় মাতবররা পরিস্থিতি শান্ত করে। নবজাতকের মা জানান, ১০ বছর আগে শহরের গোয়ালপাড়া গ্রামের রায়হান নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসার ছিল তাদের। অভাব অনটনের মধ্যে সংসার ছেড়ে রায়হান তিন বছর আগে লিঙ্গ পরিবর্তন করে ট্রান্সজেন্ডার হয়ে যান। এরপর থেকে হিজড়াদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন রায়হান। তিন সন্তান নিয়ে বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করেন ঐ নারী। নবজাতককে ফেলে দেয়ার বিষয়ে নবজাতকটির মা জানান, শহরের ভাড়াবাসায় থাকেন তিনি। অভাবের সংসারে গত বছর একটি সন্তান জন্ম দেন তিনি। দালালের মাধ্যমে পরে ৬০ হাজার টাকায় শিশু সন্তানকে বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা পান তিনি। এ বছর আবারও অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। কিছুদিন আগে পূর্ব মহেশালী গ্রামে বাবার বাড়িতে আসেন। গত ২৪ মার্চ সোমবার ভোরে প্রসব যন্ত্রণার এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের ভুট্টা খেতে চলে যান, সেখানেই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এরপর নবজাতককে সেখানে ফেলে বাড়িতে চলে আসেন। অভাবের তাড়নায় এবং শিশুটির বাবার পরিচয় না থাকায় তিনি এমনটা করেছেন বলে জানান।
ঐ দিনই নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেন স্থানীয়রা। ইউএনও ঐ নবজাতককে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ঐ নবজাতক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল মঙ্গলবার নবজাতকের মায়ের হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে। ঠাকুরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা নবজাতকের মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
